ঘুরে আসুন সৌন্দর্যের শহর যশোরে

ঘুরে আসুন বাংলাদেশের সবচেয়ে সৌন্দর্যের শহর যশোরে । সবুজ- শ্যমলে রুপায়িত দেশ বাংলাদেশ। শুদ্ধ বাতাস, আথিতিয়েতায় পূর্ন দেশ বাংলাদেশ যার মধ্যে যশোরের মানুষের আতিথিয়েতা মুগ্ধ হবেন দর্শনার্থীরা। এখানে রয়েছে অসংখ্য ভ্রমন স্পট। যা দেখে আপনার চোখ জুড়িয়ে যাবে।

ঘুরে আসুন সৌন্দর্যের শহর যশোরে
সৌন্দর্যের শহর যশোর

বাংলাদেশের প্রথম স্বাধীন শহর যশোর। প্রথম ডিজিটাল শহরও এই যশোর। সবুজ- শ্যমলে রুপায়িত দেশ বাংলাদেশ। শুদ্ধ বাতাস, আথিতিয়েতায় পূর্ন দেশ বাংলাদেশ যার মধ্যে যশোরের মানুষের আতিথিয়েতা মুগ্ধ হবেন দর্শনার্থীরা।  এখানে রয়েছে অসংখ্য দর্শনীয় স্থান। যা দেখে আপনার চোখ জুড়িয়ে যাবে।

যা যা দেখতে পাবেন ও কিভাবে যাবেন যশোরের সকল দর্শনীয় স্থানে

ঝাঁপা বাওড় ও ভাসমান সেতু

দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তর উপজেলা যশোরের মনিরামপুর উপজেলার রাজগঞ্জ বাজার সংলগ্ন একটি গ্রামের নাম ঝাঁপা। প্রায় ১৫ হাজার জনসংখ্যার এ গ্রামটির তিন পাশ দিয়ে ১২ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য এবং আঁধা কিলোমিটার প্রস্থ মিলে ৬৪০ একর জলাকারের একটি বাওড় রয়েছে। আর এ গ্রামটির নামানুসারে বাওড়টির নাম করন করা হয় ঝাঁপা বাওড়। বাওড়টির গভীরতা ১৮ থেকে ২০ ফুট পর্যন্ত। আর এই বাওড়ের উপর নির্মান করা হয়েছে দৃষ্টিনন্দন এক ভাসমান সেতু।

দেশীয় প্রযুক্তি ব্যবহার করে আট শ প্লাস্টিকের ড্রাম, আট’শ মণ লোহার অ্যাঙ্গেলও দুই শ পঞ্চাশ টি লোহার শিট দিয়ে সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছে। এই সেতুর ওপর দিয়ে মোটরসাইকেল, ভ্যান-রিকশাসহ ছোট যানবাহন চলাচল করতে পারবে। এ সেতু দেখতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দর্শনার্থীরা তাদের কৌতুহল মেটানোর জন্য এখানে আসছেন। সেতুটিতে হাঁটছেন, ঘুরছেন এবং আনন্দ উপভোগ করছেন।

মহাকবি মাইকেল মধু সূদন দত্তের বাড়ি

মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত (২৫ জানুয়ারি ১৮২৪ – ২৯ জুন ১৮৭৩) ঊনবিংশ শতাব্দীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ বাঙালি কবি ও নাট্যকার এবং প্রহসন রচয়িতা। মাইকেল মধুসূদন বাংলা ভাষায় সনেট ও অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক। তার সর্বশ্রেষ্ঠ কীর্তি অমিত্রাক্ষর ছন্দে রামায়ণের উপাখ্যান অবলম্বনে রচিত মেঘনাদবধ কাব্য নামক মহাকাব্য। ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি বাংলা প্রেসিডেন্সির যশোর জেলার (অধুনা বাংলাদেশ রাষ্ট্রের যশোর জেলার কেশবপুর উপজেলার) সাগরদাঁড়ি গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত হিন্দু কায়স্থ পরিবারে মধুসূদন দত্তের জন্ম হয়। তিনি ছিলেন রাজনারায়ণ দত্ত ও তার প্রথমা পত্নী জাহ্নবী দেবীর একমাত্র সন্তান।

সড়ক পথে- ঢাকা থেকে ঢাকা-খুলনা জাতীয় মহাসড়কে যশোর অতিক্রম করে রাজার হাট নামক স্থান হতে সাতক্ষীরা রোডে প্রায় ৩৬ কিঃমিঃ কেশবপুর উপজেলা পরিষদ ।এই পরিষদ হতে কেশবপুর থেকে সাগরদাঁড়ী প্রায় ১৬ কি:মি: অতিক্রম করে মহাকবি মাইকেল মধুসূধন দত্তের পৈত্রিক জন্ম ভূমি। প্রতিবছর এই সাগড়দাঁড়ীতে হয় মাইকেল মেলা।

ফুলের রাজধানী গদখালী 

গদখালী (Godkhali) বাংলাদেশের ফুলের রাজধানী হিসাবে সুপরিচিত। যশোর জেলা শহর থেকে বেনাপোলের দিকে ১৮ কিলোমিটার এগুলেই গদখালী বাজার। গদখালীতে আসা ফুলগুলো যশোর থেকে ২৫ কিলোমিটার দূরে ঝিকরগাছা ও শার্শা থানার ৯০ টি গ্রামের প্রায় ৪ হাজার বিঘা জমিতে চাষ করা হয়। গদখালী যাওয়ার সবচেয়ে ভালো সময় জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাস।

দমদম পীরের ডিবি

এখানে দেখতে পারবেন পীরের মাজার। কিভাবে যাবেন এই দমদম পীরের ডিবিতে।সড়ক পথে- ঢাকা থেকে ঢাকা-খুলনা জাতীয় মহাসড়কে যশোর অতিক্রম করে রাজার হাট নামক স্থান হতে সাতক্ষীরা রোডে প্রায় ০৭ কিঃমিঃ মণিরামপুর এর দিকে সড়ক সংলগ্র ভোজগাতী ইউপির অধীন।

বেনাপোল স্থল বন্দর

যশোরের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান নিয়ামক বেনাপোল স্থলবন্দর যা শার্শা উপজেলার সীমান্তবর্তী গ্রাম বেনাপোলে অবস্থিত। ভারত-বাংলাদেশ বাণিজ্যের সিংহভাগ এর মাধ্যমে সংঘটিত হয়। সরকারি আমদানী শুল্ক আহরণে বেনাপোল স্থল বন্দরটির ভূমিকা তাৎপর্যপূর্ণ।

এখানকার মানুষের জীবিকার অন্যতম সূত্র বেনাপোল স্থল বন্দরের কাস্টমস্‌ ক্লিয়ারিং এজেন্টের কাজ।বেনাপোল মূলত   বাংলাদেশ ও ভারতের সীমান্তবর্তী একটি গ্রাম যেখানে একটি সীমান্ত তল্লাশী ঘাঁটি ও আন্তর্জাতিক স্থল বন্দর অবস্থিত। এই স্থল বন্দরের শুল্ক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য রয়েছে বেনাপোল কাস্টমস হাউজ। স্থল বন্দরের কার্যক্রম পরিচালনা করে বাংলাদেশ স্থল বন্দর কর্তৃপক্ষ। বেনাপোল রেলস্টেশানের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ-ভারত রেল চলাচল অনুষ্ঠিত হয়।বেনাপোলের বিপরীতে ভারতের দিকের অংশটি পেট্রাপোল নামে পরিচিত। এটি পশ্চিম বাংলার বনগাও মহুকুমার অন্তর্ভুক্ত।বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার স্থল বাণিজ্যের প্রধান কেন্দ্র হিসাবে বেনাপোল স্থল বন্দর ব্যবহৃত হয়। বেনাপোল হতে কলকাতা মাত্র ৮০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। মোট স্থলবাণিজ্যের ৯০% এই বেনাপোলের মাধ্যমে সংঘটিত হয়ে থাকে।বাংলাদেশ থেকে স্থল পথে ভারত গমনের প্রধান পথ যশোর-বেনাপোল-বনগাঁ-কোলকাতা গ্র্যান্ড ট্রাঙ্ক রোড। এই পথে প্রতিদিন শত শত ভ্রমণকারী চলাচল করে থাকে। 

যশোর থেকে গাড়ী,বাস অথবা অটোতে করে শার্সা উপজেলায় যেতে হয়।শার্শায় বেনাপোল বন্দর অবস্থিত।

বিনোদিয়া ফ্যামিলি পার্ক

যশোর শহর থেকে মাত্র ৫ কিলোমিটার দূরে সেনানিবাসের শানতলা নামক স্থানে এক মনোরম পরিবেশে পার্কটি অবস্থিত। ১৯৯৮ সালে লে: কর্ণেল ফয়েজ আহমেদ-এর উদ্যোগে পার্কটি প্রতিষ্ঠা করা হয়। পূর্বে একটি ছিল উন্মুক্ত ময়দান। পরে টিকিটের ব্যবস্থা করা হয়। বিনোদনের জন্য এখানে রয়েছে মিনি চিড়িয়াখানা, শিশুদের জন্য পার্ক, ছোট্ট নদী, রবীনহুডের ঘর, কৃত্তিম ঝরণা, ২টি খাবার স্টল প্রভৃতি। প্রতিদিন সকাল ৮টি থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য খোলা থাকে পার্ক। শীতকালে ৫টা পর্যন্ত। কোন বন্ধের দিন নেই।

কিভাবে যাওয়া যায়: পালবাড়ি মোড় থেকে বোট ক্লাবের দিকে অগ্রসর হলে একই রাস্তায় পাওয়া যায়।

যশোর কালেক্টরেট ভবন

ব্রিটিশ আমলে নির্মিত এই ভবন শুধু যশোর নয় সমগ্র খুলনা বিভাগের মধ্যে একটি ঐতিহ্যবাহী ভবন।  ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সাথে যশোর কালেক্টরেটের নাম ওতপ্রোত ভাবে জড়িয়ে আছে। যশোর কালেক্টরেট স্থাপিত হয় ১৭৮৬ সালে। ১৭৮১ সালে জেলা ঘোষনার পর প্রথম জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের দায়িত্ব পালন করেন Mr. Tilman Henckell (1781-1789) জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট কালেক্টরেটের দায়িত্ব পান। যশোর কালেক্টরেট নিজস্ব ভবন তৈরী হয় ১৮০১ সালে। কালেক্টরেট ভবনটি দড়াটানা, যশোর এ অবস্থিত। এটি শহরের প্রাচীনতম স্থাপনারগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য একটি। এই ভবনের সাথে জড়িয়ে আছে বাংলাদেশের ২০০ বছরের ইতিকথা। ভবনটি বর্তমানে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়। বর্তমান ভবনের একতলা স্থাপিত হয় ১৮৮৫ সালে এবং দোতলা নির্মিত হয় ১৯৮২ সালে। 

শেখ হাসিনা হাইটেক পার্ক

যশোর আইটি পার্ক যা (শেখ হাসিনা সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক) নামেও পরিচিত, বাংলাদেশের যশোর জেলায় অবস্থিত প্রথম আইটি পার্ক। ২০১৭ সালের ৫ অক্টোবর উদ্বোধন করেন আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। দেশের আইসিটি সেক্টরের বিকাশে যশোরে যাত্রা শুরু করেছে শেখ হাসিনা সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক। ১০ই ডিসেম্বর, ২০১৭ইং গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এই আইটি পার্কের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর মাধ্যমে দেশের আইসিটি সেক্টরে সম্ভাবনার নতুন দুয়ার উন্মোচিত হলো।

চাঁচড়া জমিদার বাড়ি

চাঁচড়া জমিদার বাড়ি বাংলাদেশ এর যশোর জেলার যশোর সদর উপজেলায় অবস্থিত এক ঐতিহাসিক জমিদার বাড়ি। এই জমিদার বাড়িটিকে চাঁচড়া রাজবাড়িও বলা হয়ে থাকে। আনুমানিক ১৭০০ কিংবা ১৮০০ শতকে এই জমিদার বাড়িটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তবে জমিদার বংশ ও বাড়ির গোড়াপত্তনকারী সম্পর্কে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

যশোর বিমানবন্দর

যশোর বিমানবন্দর (আইএটিএ: JSR, আইসিএও: VGJR) যশোর, হল বাংলাদেশের যশোর শহরে অবস্থিত একটি অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দর। বিমানবন্দরটি বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ দ্বারা পরিচালিত এবং রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়। বাংলাদেশ বিমান বাহিনী এ বিমানবন্দরটিকে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী ঘাটি মতিউর রহমান, যশোর এর অংশ হিসাবে এবং বাংলাদেশ বিমান বাহিনী একাডেমীর প্রশিক্ষণকেন্দ্র হিসাবে ব্যবহার করে।

১৯৪২ সালে ব্রিটিশ সরকার দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জড়িয়ে পড়লে যশোরে বিমান ঘাঁটি নির্মাণ কাজ শুরু করে। ছয় মাসের মধ্যে ব্রিটিশ বিমান বাহিনীর উপযোগী একটি বিমান বন্দর চালু হয়। ১৯৪৫ সাল পর্যন্ত এই বিমান ঘাঁটি সচল ছিল। এরপর ভারত ভাগ হলে ১৯৫০ সালে যশোরে পাকিস্তান সেনা বাহিনী ও বিমান বাহিনীর ঘাঁটি স্থাপন করে। ১৯৫৬ সালে যশোরে পুনাঙ্গ বিমান বন্দর চালুর উদ্যোগ নেয়া হয়। তবে যশোরে পূর্নাঙ্গ বিমানবন্দর চালু হয় ১৯৬০ সালে। পিআইএ চট্টগ্রাম, যশোর ও ঈরশ্বদী থেকে ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করে।