কেশবপুরে তীব্র তাপদাহে শুকিয়ে যাচ্ছে পাটগাছ

যশোরের কেশবপুরে তীব্র তাপদাহে শুকিয়ে যাচ্ছে পাটগাছ। দীর্ঘদিন বৃষ্টি না হওয়ায় ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় ক্ষেতে সেচ দিতে ও আগাছা পরিষ্কার করতে গিয়ে কৃষকেরা পড়েছেন চরম বিপাকে।

কেশবপুরে তীব্র তাপদাহে শুকিয়ে যাচ্ছে পাটগাছ
শুকিয়ে যাচ্ছে পাটগাছ

যশোরের কেশবপুরে তীব্র তাপদাহে শুকিয়ে যাচ্ছে পাটগাছ

পাটের আবাদ নিয়ে কৃষকের মাঝে দেখা দিয়েছে শঙ্কা। এ অবস্থা চলতে থাকলে পাট উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে এ উপজেলায় ৪ হাজার ১শ হেক্টর জমিতে পাট আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত আবাদ হয়েছে ১ হাজার ৭শ হেক্টর জমিতে। আবাদকৃত ক্ষেতে পাটের চারা গজালেও তীব্র দাপদাহের কারণে অনেক কৃষকের ক্ষেতের কচি পাতা কুঁকড়ে যাচ্ছে। বৃষ্টি না হওয়ায় পাটের চারা রক্ষা করতে কৃষকরা দূর থেকে পাইপের মাধ্যমে সেচ দিতে ও ক্ষেতের আগাছা পরিষ্কার করতে গিয়ে কৃষকেরা সমস্যার মধ্যে পড়ছেন। এতে তাদের পাট উৎপাদন খরচও বেড়ে যাচ্ছে।


উপজেলার সাতবাড়িয়া ইউনিয়নের জাহানপুর গ্রামের কৃষক সাখাওয়াত হোসেন বলেন, তিনি ১ বিঘা জমিতে ১৩ দিন আগে পাটের বীজ বপণ করেন। বৃষ্টি না হওয়ায় জমিতে ১ বার সেচ দিতে তাঁর ৬শ টাকা খরচ হয়েছে। তীব্র দাপদাহে ক্ষেতে পাটের বীজ থেকে এখনও পরিপূর্ণভাবে চারা বের হয়নি।
কেশবপুর সদর ইউনিয়নের দোরমুটিয়া গ্রামের কৃষক বজলুর রহমান জানান, গতবছর পাট চাষে লাভ হওয়ায় এবার বিলে প্রায় ২ বিঘা জমিতে আবাদ করেছেন। কিন্তু খরার কারণে ক্ষেতে সেচ দিতে তার বাড়তি খরচ হচ্ছে। এতে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাচ্ছে। পানির অভাবে পাট গাছ সেভাবে বাড়ছে না।


পৌরসভার ভোগতীনরেন্দ্রপুর এলাকার পাটচাষী রেজাউল ইসলাম জানান, প্রচন্ড রোদ ও অনাবৃষ্টির কারণে তার ক্ষেতের পাট গাছের কচি পাতা কুঁকড়ে যাচ্ছে। ক্ষেতে পাটের চারা গজানোর থেকে ঘাস গজিয়েছে বেশি। ওই আগাছা পরিষ্কার করতে বাড়তি শ্রমিক নিতে হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে পাট আবাদে এবার লোকসান গুনতে হবে। তার ক্ষেতে নিড়ানি দেওয়ার সময় নারী শ্রমিক আনোয়ারা বেগম ও হাজিরা খাতুন বলেন, সাবধানতা অবলম্বন করে ঘাস উপড়ে পাটের চারা রক্ষা করতে হচ্ছে। তীব্র গরমের মধ্যে আগাছা পরিষ্কার করাও কষ্টকর হয়ে যাচ্ছে।
উপজেলার মজিদপুর ইউনিয়নের বাগদহা গ্রামের কৃষক মশিয়ার রহমান জানান, তিনি ১ বিঘা ৬ কাটা জমিতে পাট বপণ করেছেন। দূর থেকে তিনি পাইপের মাধ্যমে সেচ কাজ চালিয়ে তার ক্ষেতের পাট রক্ষা করার চেষ্টা করে যাচ্ছেন। বৃষ্টি না হলে পাট আবাদের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হওয়ার আশঙ্কা করেন তিনি।


এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি অফিসার মহাদেব চন্দ্র সানা বলেন, চলতি মৌসুমে কেশবপুরে ৪ হাজার ১শ হেক্টর জমিতে পাট আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত আবাদ হয়েছে ১ হাজার ৭শ হেক্টর জমিতে। প্রচন্ড দাপদাহে কারণে কৃষকদের বিকেলের পর ক্ষেতে সেচ দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বৃষ্টি হলে পাট আবাদের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়ে যাবে।