অভয়নগরে তারাবি নামাজ পড়ে বাড়ি ফেরার পথে আওয়ামী লীগ নেতাকে কুপিয়ে জখম

যশোরের অভয়নগরে তারাবি নামাজ পড়ে বাড়ি ফেরার পথে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুর রশিদ মোল্যাকে (৫০) চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা কুপিয়ে ও হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে জখম করেছে।

অভয়নগরে তারাবি নামাজ পড়ে বাড়ি ফেরার পথে আওয়ামী লীগ নেতাকে কুপিয়ে জখম

তারাবি নামাজ পড়ে বাড়ি ফেরার পথে আওয়ামী লীগ নেতাকে কুপিয়ে জখম

যশোরের অভয়নগরে তারাবি নামাজ পড়ে বাড়ি ফেরার পথে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুর রশিদ মোল্যাকে (৫০) চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা কুপিয়ে ও হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে জখম করেছে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।বুধবার রাতে উপজেলার ধোপাদী গ্রামের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ সংলগ্ন আজিম মোড়লের বাড়ির সামনে এ হামলার ঘটনা ঘটে। আহত আব্দুর রশিদ মোল্যা নওয়াপাড়া পৌর আওয়ামী লীগের ৩নং ওয়ার্ডের সাংগঠনিক সম্পাদক ও ধোপাদী গ্রামের মধ্যপাড়া এলাকার মৃত রহম আলী মোল্যার ছেলে।আহতের স্ত্রী সেলিনা পারভীন জানান, বুধবার (২১ এপ্রিল) সকালে ধোপাদী গ্রামের হালিমের মাছের ঘেরে একই গ্রামের একদল চোর মাছ চুরি করছিল। এমসময় আমার ১১ বছরের শিশুপুত্র নাহিদ বিষয়টি দেখে ফেলে এবং চুরির ঘটনাটি সবাইকে জানিয়ে দেবে বলে জানায়। এতে চোর চক্রের সদস্যরা ক্ষুব্ধ হয়ে নাহিদকে মারপিট করে বাড়ি পাঠিয়ে দেয়। বাড়ি ফিরে নাহিদ ঘটনাটি জানালে দুপুরের পর তার বাবা চিহ্নিত চোর চক্রের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করে এবং চুরি ও ছেলেকে মারপিটের প্রতিবাদ করে। এরই জের ধরে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলার ঘটনা ঘটানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২২ এপ্রিল) রাতে অভয়নগর থানায় মামলা দায়ের করা হবে।উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন আহত আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুর রশিদ মোল্যা জানান, বুধবার রাতে তারাবি নামাজ পড়ে বাড়ি ফিরছিলাম। আজিম মোড়লের বাড়ির সামনে পৌঁছালে চোর চক্রের সদস্য ধোপাদী গ্রামের মধ্যপাড়া এলাকার জাকির মোড়লের ছেলে যুবলীগ নেতা মুরাদ হত্যা মামলার আসামি সবুজ, দেলোয়ার হোসেনের ছেলে আল-আমিন, মোজাফ্ফর ফকিরের ছেলে রাকিব হাসান ও মোতালেব ফকিরের ছেলে ময়মেনসহ অজ্ঞাত ১০/১৫ জন সন্ত্রাসী আমার ওপর হামলা চালায়। তারা চাইনিজ কুড়াল দিয়ে মাথায় কোপাতে থাকে এবং হাঁতুড়ি দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে। জীবন বাঁচাতে চিৎকার করলে এলাকাবাসী এগিয়ে আসে। তখন প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি দিয়ে তারা চলে যায়।উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমও ডা. আলিমুর রাজিব জানান, রোগীর মাথায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়েছে। মাথার তিনটি বড় ক্ষতে ২০টি সেলাই দিতে হয়েছে। শরীরে হাতুড়ি দিয়ে পেটানোর চিহ্ন পাওয়া গেছে। যেহেতু মাথায় আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছেন, ৪৮ ঘণ্টা না যাওয়া পর্যন্ত রোগীকে শঙ্কামুক্ত বলা যাচ্ছে না। অবস্থার অবণতি হলে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হবে।এলাকাবাসী জানায়, আব্দুর রশিদের ওপর যারা হামলা চালিয়েছে তারা এলাকায় চুরি, ছিনতাই, মাদক কারবারসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থাকে। এই চক্রের নেতা একাধিক মামলার আসামি সুফিয়ান। হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিৎ।৩নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি তবিবর রহমান তবি জানান, ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুর রশিদ মোল্যার উপর হামলাকারী সন্ত্রাসীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে বিচার করতে হবে।অভয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান  জানান, ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ নেতার ওপর হামলার ঘটনায় রাতে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। বৃহস্পতিবার সকালে সরকারি হাসপাতালে পুলিশ গিয়েছিল। এখনও কোনো অভিযোগ হয়নি। অভিযোগ দায়ের হলে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।